Posts

ছোট্টবেলার ভিমরি

Image
সেই ছোট্টবেলার কথা ।তখন আমি দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ি। একদিন স্কুল থেকে বাড়ি যাবার পথে দেখলাম রাস্তা পাকা করার কাজ চলছে। পিচ ঢালাই করা হচ্ছে রাস্তায়। কেমন যেন একটা গন্ধ বেশ ভালই লাগছিল। গন্ধটা আমার কাছে বেশ আকর্ষনীয় লাগছিল বুক ভরে নিঃশ্বাস নিচ্ছিলাম। স্কুল ছুটির পর আমরা চাচাতো ভাই বোন সবাই একসাথে বাড়ি ফিরি । রোজকার মতো সেদিনও যাচ্ছিলাম সাথে আরও ৩-৪ জন। আমার এক চাচাতো ভাই ও চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। ও লক্ষ্য করলো পিচ আর কেরোসিনের গন্ধ বুক ভরে নিঃশ্বাসের সাথে নিচ্ছিলাম আমি।ও একটু মৃদু হেসে বলল শোন।।।। জানিস এই পিচ কত উপকারী? আমি বললাম না তো ভাইয়া। ও তখন বলল এই পিচ যদি কাঠে লাগানো হয় তাহলে সেই কাঠে ঘুন পোকা ধরে না। আমি অবাক হয়ে খুব উৎফুল্ল তার সাথে বললাম ভাইয়া তাই নাকি!!! ভাইয়া বলল হ্যাঁ। তখন বললাম তাহলে এখান থেকে কিছু পিচ নিয়ে নেই বাড়িতে যে গিয়ে এগুলোকে লাগিয়ে দিব কাঠের গায়ে। যেই কথা সেই কাজ।।। হাত দিয়ে খামচে খামচে ড্রামের গা থেকে কিছুটা পিচ নিলাম। রাস্তায় কর্মরত লোক গুলো বলছিলো.. বাচ্চারা কি করছো তোমরা? তখন ভয়ে তাড়াতাড়ি সেখান থেকে ছুট্টে পালালাম। তারপর বাড়ি ...

অদৃশ্য ক্ষত

Image
সন্ধ্যায় পরিবারের সবাই একসাথে চা নাস্তা করতে বসেছে নীলিমা। হঠাৎ ই একটি অপরিচিত নং থেকে কল আসে। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে একটি ছেলে কন্ঠ বলে...আপা কেমন আছেন? আমি নিলয়। নীলিমা কিছুটা ইতস্তত বোধ করে বললো তুমি কেমন আছো?  বলতে  গিয়ে কেমন জানি হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছিল খুব ভয় হচ্ছিল ওর। ওর বাবা যদি শুনে ফেলে.. কার সাথে কথা বলছো ও। আর কি বা বলছে। যাই হোক আগে জানতে হবে আজ এতদিন পর হঠাৎ নিলয় কেন ফোন দিয়েছে। কি বলতে চায় ও। নীলিমা বারান্দার দরজাটা আটকে দিয়ে খুব চাপা গলায় বলে কেমন আছো? ওপাশ থেকে নিলয় বলে ভালো। আপা আমি নিরব ভাইয়াকে ফোন দিয়েছিলাম ।আম্মা বলছিল তোমার বাসায় গিয়ে কিছুদিন থাকবে সে তার নাতিদেরকে দেখতে চায়। ভাইয়া কে আমি বললাম আম্মার কথা ভাইয়া শুনে বলল আগে নীলিমার কাছে ফোন দিয়ে শোনো। আমি যতদূর জানি আব্বা এখন ওর বাসায় আছে।  নিলয় বলল, আপা আম্মা কি তাহলে তোমার বাসায় যাবে কিছুদিনের জন্য? আসলে আমাদের এখানে একটা ঝামেলা হয়েছে‍। কয়েক বছর আগে আব্বা এবং আম্মা দুজনে মিলে ব্যাংক থেকে কিছু টাকা লোন নিয়েছিল । সময়মতো সে টাকা পরিশোধ না করায় ব্যাংক থেকে নোটিশ এসেছে এবং ওয়ারেন্ট জারি হয...

নির্বাক বক্তব্য

Image
আজ সকালে ঘুম ভাঙল পাখির কিচিরমিচির শব্দে। চে।খ খুলেই দেখি জানালায় একজোড়া শালিক। মনে হচ্ছে শালিক যুগল আপন মনে ক্ষুনশুটি করছে।  আমি  একটু নড়ে বসতেই পাখি দুটি ছুটাছুটি শুরু করলো। একটা পাখি বেরিয়ে  গেলো কিন্তু আরএকটি বেরুনোর রাস্তা হারিয়ে ফেলে ভয়ে এদিক ওদিক ছুটাছুটি শুরু করলো আর একসময় জানালার গ্লাসে দরাস করে বাড়ি খেয়ে পড়ে রইলো গ্রীল  এর ভেতর। । আমি খুবই আলতো হাতে পাখিটাকে ধরলাম।  অবাক কথা এই যে আমি পাখিটাকে ধরার পরও সে একটু নড়লো না। আমার দিকে করুণ এক দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো। মনে হচ্ছিলো ও যেন আমায় কিছু বলছে যা ওর নির্বাক দৃষ্টি দিয়ে বুঝাতে চাইছে আমিও বুঝার চেষ্টা করলাম-----হ্যাঁ ও বলছে---- কি ভেবেছো তুমি???  আমি ডানা ঝাপটাবো?.? আস্ফালন করবো??প্রাণ ভিক্ষা চাইবো??? না না  আমি তা চাইনা।  তোমরা মানবকূল নির্দয় নিষ্টুর, দিনের পর দিন গাছ কাটে বনভূমি উজার কর, অট্টালিকা বানাও, প্রাসাদ গড়ো একবারও কী ভেবে দেখো আমরা পক্ষী সঙ্কুল যাবো কোথায়?? তোমরা কি পারোনা তোমাদের বাড়ির আঙ্গিনায় বা অট্টালিকার ছাদে গাছ লাগাতে। যাতে আমরা ও বেঁচে থাকতে পারি।তোমাদের প্রাসাদ অন্দরে প্রাণ বাচাঁতে যেন দিকবিদিক জ্ঞানশূণ্য হয়ে ছুট...

বিয়ে যত নষ্টের গোড়া।।।

Image
দুপেয়ো  দৈত্য (মানুষ)যখন চারপেয়ো  হয় তখন সংসারে সুপ্ত আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয় যা ধীরে ধীরে জ্বালামুখ সৃষ্টি করে ও অগ্ন্যুৎপাত ঘটায় এবং সংসারে বিপর্যয় ডেকে আনে।।। বি:দ্র: বিয়ে ফ্যাক্ট

আমার ডায়েরি ।

Image
তিন বছরের শিশুর যুক্তির সামনে হার মনতে বাধ্য হলাম। সাল 2005 ডিসেম্বর মাস------- এক বিকেলে --আমার পরিবার আর বোনের পরিবার একসাথে বেড়াতে গেলাম পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে---- আমার ছেলের বয়স তিন বছর ---- আপুর এক ছেলে ওর বয়স ছয়----' বীচে গিয়ে আমরা বেশ মজা করলাম আর অনেক ছবিও উঠাচ্ছিলাম ।একসময় দুলাভাই আমাদের ছোঠ পরিবারের ছবি উঠাতে চাইলে আমরা প্রস্তুত হচ্ছিলাম কিন্তু আমার তিন বছর বয়সী শান্ত,মিষ্টি,দু ষ্টু,চঞ্চল ছেলেটি আসতে চাইছিলো না-।ও  নিজের দু -হাত দু পাশে মেলে ধরে বীচের ফাঁকা জায়গায় বিমানের অনুকরণে -দৌড়াচ্ছিল। ওর বাবা ওকে ডাকলে আমি বাঁধা দিয়ে বললাম, থাকনা--- ওকে খেলতে দাও ---আমরা আগে ছবি উঠিয়ে নেই-- বিপত্তি টা ঘটলো সেখানেই------ একটা ছবি উঠানোর পর তাকিয়ে দেখি ও নেই-- নেই তো নেই----কোথাও নেই!!!!!!!!! আমরা হন্তদন্ত হয়ে চতুর্দিক খুঁজতে শুরু করলাম- কিন্ত ওকে পাচ্ছিলাম না----' মূহুর্তেই আমি ভয়ে আতঙ্কে আতকে উঠলাম-- ছেলেকে কি হারিয়ে ফেললাম???? দুলাভাই আমার দিকে তাকিয়ে আমাকে কাঁদতে দেখে বললো--- দেখো --ভূল করেও কাউকে বুঝতে দেওয়া যাবে না যে আমরা বাচ্চাকে খুঁজে পাচ্ছিনা --তুমাকে শক্ত হতে হবে-কাঁদতে ...

হায়রে ভাগ্য!!

Image
সত্য ঘটনা অবলম্বনে আজও    ভাগ্যের  মা কে দেখা যায় বাড়ির আঙ্গিনায়,অথবা পথের ধাঁরে বসে বুক চাপড়াতে আর চোখের পানি ফেলতে----         ভাগ্যে নাকি কুকুর হয়ে গেছে--------    মুয়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার  মুজাটি  গ্রামে বলাই চাঁদের বসবাস(  2000 )জৌষ্ঠমাস।জমিজমা সম্পদ বলতে কিছুই নাই তার।জনৈক এক মুসলিমের প্রায় পরিত্যাক্ত বাড়িতে মাথাগোঁজার ঠাঁই হিসাবে তাদের বসবাস। বাঁশের   চাটাই,কুলা,চালুন বানিয়ে বিক্রি করে সে জীবিকা নির্বাহ করে। সংসারে তার অভাব অনটন লেগেই থাকে।বলাই এর চেহারায় অভাবের ছাপ স্পষ্ট,চক্ষু কোটরাগত,চুয়ালের হাড় বর্ধিত।স্ত্রী রাধা রাণী-পরনে বিবর্ণ ছেড়া শাড়ী,ঠিকমত পেট পুরে খাবার না পাওয়ার সাক্ষী দিচ্ছে তার উঁচু হয়ে থাকা দাঁত আর কঙ্কালসার দেহ।অভাবের নির্মম তাণ্ডব সইতে না পেরে সরকারি বন্ধ্যকরণ নীতি অনুসরন করে নামমাত্র সাহায্য (টাকা ও চাল)পাবার আশায়। তাদের একমাত্র ছেলে ভাগ্য।প্রাণচঞ্চল,দুরন্ত এই ছেলে।দশ বছর বয়সী এই ভাগ্য সবসময় হাসিখুশি আনন্দে মাতিয়ে রাখতো চারদিক।তার মায়াময় হাস্য উজ্জল মুখখানি দেখলে মনে কেমন জানি প্রস্বস্তি অনুভব হয় অনেকটা --গ্রীস্মের দাবদাহে মালবহনকারী ঠেলাওয়াল...